Friday , 23 February 2018
Home আন্তর্জাতিক স্বাধীনতার ঘোষণার পক্ষে ভোট দিয়েছে কাতালোনিয়ার আঞ্চলিক পার্লামেন্ট

স্বাধীনতার ঘোষণার পক্ষে ভোট দিয়েছে কাতালোনিয়ার আঞ্চলিক পার্লামেন্ট

শুক্রবার স্বাধীনতার ঘোষণার পক্ষে ভোট দিয়েছে কাতালোনিয়ার আঞ্চলিক পার্লামেন্ট। এরপর উৎসবে মেতে ওঠে বার্সেলোনাসহ ওই অঞ্চলের মানুষ। কিন্তু এর বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে স্পেনের কেন্দ্রীয় সরকার।

কাতালোনিয়ার স্বাধীনতার ঘোষণা আসার এক ঘণ্টার মধ্যেই স্পেনের সিনেট প্রধানমন্ত্রী মারিয়ানো রাজয়ের সরকারকে কাতালোনিয়ায় সরাসরি শাসন জারির অনুমতি দেয়। এরপর কাতালোনিয়ার আঞ্চলিক পার্লামেন্ট ভেঙে দেওয়ার ঘোষণা দিয়ে কেন্দ্রীয় শাসন জারি করেন রাজয়।

সংকটের শুরু ১ অক্টোবর বিতর্কিত গণভোটে স্বাধীনতার পক্ষে কাতালানদের জয়ী হওয়ার পর থেকে।

এখন একদিকে কাতালোনিয়ার স্বাধীনতার ঘোষণা, অন্যদিকে কাতালোনিয়ার আঞ্চলিক সরকার ভেঙে দিয়ে কেন্দ্রের শাসন জারি করা- পরস্পরবিরোধী এই অবস্থায় কোনো পথে যাচ্ছে কাতালোনিয়া? কী হচ্ছে সেখানে?

রাজনৈতিক সংকট ঘনীভূত হওয়ার এই মুহূর্তে কাতালোনিয়ার ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠে আসছে। সেসবের উত্তর খোঁজার প্রয়াস রইল।

কাতালান নেতাদের কী হবে?

স্পেনের প্রধানমন্ত্রী রাজয় কাতালোনিয়ার আঞ্চলিক সরকার ভেঙে দিয়েছেন এবং সরকারপ্রধান চার্লস পুজদেমনসহ অন্যদের বহিষ্কার করেছেন। সিনেটে বৈঠকের পর তিনি কাতালোনিয়ায় ২১ ডিসেম্বর আগাম নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, আগাম নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত কাতালোনিয়ার শাসনভার থাকবে স্পেনের কেন্দ্রীয় সরকারের মন্ত্রিসভার ওপর।

এর মধ্যে স্পেনের প্রসিকিউটরের অফিস জানিয়েছে, তারা পুজদেমনের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণার মামলা করবে। এমন মামলা হলে তা কেন্দ্রীয় আদালত গ্রহণও করবে। স্পেনের আইনানুযায়ী, এ ধরনের মামলায় দোষী সাব্যস্ত হলে ৩০ বছর পর্যন্ত কারাদাণ্ড হতে পারে।

এদিকে, স্পেনের একটি সাংবিধানিক আদালত কাতালোনিয়ার স্বাধীনতার প্রশ্নে অনুষ্ঠিত গণভোটের বৈধতা নিয়ে পর্যালোচনা শুরু করেছেন।

স্পেনের সরাসরি শাসন জারিতে কী হবে?

কাতালোনিয়ায় মাদ্রিদ সরকারের সরাসরি শাসন কায়েম করতে অনেক বাধার সম্মুখীন হতে হবে। ওই অঞ্চলের শিক্ষা, স্বাস্থ্য বিভাগ ও আঞ্চলিক পুলিশ বাহিনীর ওপর কাতালানদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। এখন তারা আরো জোর দিয়ে তা রক্ষার চেষ্টা করবে।

রাজয়ের সরকার বলেছে, কাউকে গ্রেপ্তারের পরিকল্পনা নেই তাদের। কিন্তু স্থানীয় সরকারের কর্মকর্তারা কার্যালয় খালি করতে না চাইলে, তখন কী হবে, তা পরিষ্কার নয়।

স্বাধীনতার পক্ষে থাকা কাতালোনিয়া পুলিশ বাহিনীর ‘মাসোস ডি’এসকোয়াদ্রা’ নামের একটি গ্রুপ ঘোষণা দিয়েছে, তাদের সদস্যরা কেন্দ্র সরকারের নির্দেশনা মানবে না এবং মন্ত্রী ও আইনপ্রণেতাদের ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য করবে না তারা। তবে রাজয় বলেছেন, মাসোসের প্রধানকে বহিষ্কার করা হবে।

মাসোস বাহিনীর কর্মকর্তাদের সরিয়ে সেখানে স্পেনের জাতীয় পুলিশ বাহিনীর কর্মকর্তাদের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। কেন্দ্রীয় পুলিশ বাহিনী স্বাধীনতার বিরোধিতা করে তা বানচাল করতে ব্যাপক তৎপরতা চালায়। এ থেকে আশঙ্কা করা হচ্ছে, মাসোস ও কেন্দ্রীয় পুলিশ বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষ বেঁধে যেতে পারে। এ ছাড়া স্বাধীনতার পক্ষের কর্মকর্তারা গণহারে কেন্দ্রীয় নির্দেশনা অমান্যের হুমকি দিয়েছে। আঞ্চলিক সরকারও এমন দির্দেশনা দিয়েছে এবং সরকারি কর্মকর্তাদের শান্তিপূর্ণ প্রতিরোধ ও কর্মবিরতি পালনের আহ্বান জানিয়েছে।

তবে আঞ্চলিক সরকারের এসব নির্দেশনা সব কর্মকর্তা মেনে চলবে, তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। কারণ গণভোটের রায়ে দেখা গেছে, কাতালানদের মধ্যে একটি উল্লেখযোগ্য অংশ স্পেন থেকে আলাদা হতে চায় না। তাদের আচরণ কেমন হবে- তা নিয়ে সংশয় থেকে যাচ্ছে।

কাতালোনিয়ার অর্থনীতিতে কী ধরনের প্রভাব পড়বে?

স্পেনের কেন্দ্রীয় সরকারের অর্থ মন্ত্রণায় এরই মধ্যে কাতালোনিয়ার অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় নিয়ন্ত্রণ জোরদার করতে শুরু করেছে এবং প্রয়োজনীয় সেবার বিপরীতে সরাসরি অর্থ সরবরাহ করছে। মাদ্রিদ সরকার কাতালোনিয়ার অর্থনীতির ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে বদ্ধপরিকর।

স্বাধীনতার ঘোষণা ও তা প্রতিরোধের এই অস্থিতিশীল অবস্থায় কাতালোনিয়ার অর্থনীতিতে বাজে প্রভাব পড়বে, তা বলাই বাহুল্য। এরই মধ্যে ১ হাজার ৭০০ কোম্পানি তাদের প্রধান কার্যালয় কাতালোনিয়ার বাইরে নিয়ে গেছে। উল্লেখ্য, স্পেনের মোট অর্থনীতির এক-চতুর্থাংশ আসে কাতালোনিয়া থেকে।

গণভোটের পর স্পেনের শেয়ারবাজার পড়ে গেছে, বিশেষ করে কাতালোনিয়ার ব্যাংকগুলোর শেয়ার বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তা ছাড়া স্পেনের মধ্যে কাতালোনিয়া অঞ্চলেই সবচেয়ে বেশি বিদেশি পর্যটকের আনাগোনা রয়েছে, যা তাদের অর্থনীতিতে ভালো অবদান রাখে। কিন্তু গণভোটের পর তাতেও ভাটা পড়েছে।

বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রতিক্রিয়া কী?

ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রধান ডোনাল্ড টাস্ক বলেছেন, কাতালোনিয়ার পার্লামেন্টে স্বাধীনতার ঘোষণা দেওয়াতে কোনো কিছুই বদলায়নি। ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) শুধু মাদ্রিদ সরকারের সঙ্গে কাজ করবে।

এর আগেও ইইউ বলেছে, কাতালোনিয়ার স্বাধীনতার ইস্যুটি স্পেনের অভ্যন্তরীণ বিষয়। স্পেন সরকারের মতো তারাও বিশ্বাস করে, স্বাধীনতার প্রশ্নে কাতালানদের গণভোট অবৈধ। এ ছাড়া স্পেনের ইউরোপীয় ও আমেরিকান মিত্ররা তাদের পাশে দাঁড়িয়ে স্পেনের অখণ্ডতার প্রতি সমর্থন জানিয়েছে।

বেলজিয়ামের প্রধানমন্ত্রী চার্লস মাইকেল বলেছেন, ‘এই রাজনৈতিক সংকটের সমাধান হতে পারে শুধু সংলাপের মধ্য দিয়ে।’ যুক্তরাজ্য ও জার্মানি জানিয়ে দিয়েছে, তারা স্পেনের অখণ্ডতাকে সমর্থন করে এবং কাতালোনিয়ার একপক্ষীয় স্বাধীনতার ঘোষণাকে স্বীকৃতি দেবে না।

স্বাধীনতাকামী স্কটিশ ন্যাশনাল পার্টির নেতৃত্বাধীন স্কটিশ সরকার মাদ্রিদের সমালোচনা করেছে। সংলাপ প্রত্যাখ্যান করে কাতালোনিয়ায় সরাসরি কেন্দ্রীয় শাসন জারি করা সমস্যার সমাধান নয় বলে মন্তব্য করে তারা।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রও মাদ্রিদ সরকারের পাশে রয়েছে। তারা অখণ্ড স্পেনের প্রতি তাদের পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছে।

ট্যাগ সমূহঃ ,
ডেস্ক প্রকাশক (উ/প্র) | Published On:October 28, 2017

❝আরো পড়ুন❞

➧পায়ু পথে সেক্স করা ও যৌনাঙ্গতে মুখ লাগানো এব্যাপারে ইসলাম কি বলে

➧জেনেনিন, বাসর রাতে যা করবেন আর কি করবেন না

➧জেনে নিন কোন তিলের কী অর্থ…

➧পুরুষরা মহিলাদের স্তনের দিকে চেয়ে থাকে কেন?

➧অনেক পুরুষ-ই জানেন না যে, কাকে বলে ফোরপ্লে!

➧হঠাৎ করে শারীরিক সম্পর্কে কী পরিবর্তন আসে মহিলাদের শরীরে?

❝এই বিভাগের আরো পোস্ট পড়ুন❞

  • ➧ইয়েমেনি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ১৮০ ভাড়াটে সেনা নিহত

  • ➧এরদোগানের কথায় রাজি হয়ে গেলেন বুলগেরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী

  • ➧ট্রাম্পের অভিবাসী নিষেধাজ্ঞা আদালতে স্থগিত

  • ➧জাপানের সম্রাট সিংহাসন ছেড়ে অবসরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন

  • ➧আত্মহত্যা করার জন্য নিজেকে সঁপলেন এক যুবক!