Friday , 23 February 2018
Home --প্রধান সংবাদ-- জলবায়ু পরিবর্তনে ভয়াবহ ঝুঁকিতে পড়েছে বাংলাদেশ

জলবায়ু পরিবর্তনে ভয়াবহ ঝুঁকিতে পড়েছে বাংলাদেশ

জলবায়ু পরিবর্তনে ভয়াবহ ঝুঁকিতে পড়েছে বাংলাদেশ। ফলে আগামী কয়েক দশকের মধ্যে দেশের এক-তৃতীয়াংশ পানিতে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

এ ছাড়া দু-এক বছর পর পর নিম্নাঞ্চল বন্যাকবলিত হয়ে ব্যাপক ফসলহানি ঘটবে। বাড়বে বাস্তুহারা লোকের সংখ্যা।

এতে বেড়ে যাবে দারিদ্র্যের হারও। বিশ্বব্যাংক ও ইন্টারন্যাশনাল প্যানেল অন ক্লাইমেট চেঞ্জসহ (আইপিসিসি) বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার সাম্প্রতিক রিপোর্ট, জলবায়ু সংক্রান্ত বিভিন্ন সভা-সেমিনার ও বিশেষজ্ঞদের মন্তব্যে এমন শঙ্কার বিষয় উঠে আসে। সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে দফায় দফায় অকাল বন্যা ও জলাবদ্ধতায় সেই

শঙ্কা বাস্তবে রূপ নিতে যাচ্ছে। জানা যায়, বৈশ্বিক উষ্ণতা বাড়ার ফলে মেরু অঞ্চল ও পর্বত চূড়ার বরফ গলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়ছে। এতে বাংলাদেশসহ সমুদ্রপৃষ্ঠের কাছাকাছি উচ্চতার অনেক নিচু দেশ সাগরে তলিয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে পড়েছে।

২০১৭ সালের গ্লোবাল ক্লাইমেট রিস্ক ইনডেস্কে ঝুঁকিতে থাকা শীর্ষ ১০ দেশের তালিকা করা হয়। এর মধ্যে ষষ্ঠ স্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। অন্য দেশগুলো হল- হন্ডুরাস, মিয়ানমার, হাইতি, নিকারাগুয়া, ফিলিপিনস, পাকিস্তান, ভিয়েতনাম, গুয়েতেমালা ও থাইল্যান্ড।

২০১৪ সালে আইপিসিসির পঞ্চম মূল্যায়ন প্রতিবেদনে বলা হয়, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশে দারিদ্র্যের হার অনেক বেড়ে যেতে পারে। এর প্রভাব মোকাবেলা করতে না পারলে ২০৩০ সালের মধ্যে সামগ্রিক দারিদ্র্যের হার ১৫ ভাগ বেড়ে যতে পারে।

এতে আরও বলা হয়, দারিদ্র্যবিমোচনে বাংলাদেশের যে অগ্রগতি হচ্ছে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে তা হুমকির মুখে পড়তে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ভবিষ্যতে শুধু যে প্রাকৃতিক দুর্যোগ বাড়বে তা নয়, এর ফলে খাদ্য নিরাপত্তাও সংকটে পড়বে। কমে যাবে কৃষি উৎপাদন।

বাড়বে মানুষের রোগ-ব্যাধি। উন্নত বিশ্বের অতিমাত্রায় কার্বন নিঃসরণের ফলে এভাবে নতুন নতুন রোগের সৃষ্টি হবে, যার ফল ভোগ করবে বাংলাদেশের মতো দরিদ্র দেশের মানুষ।

২০৫০ সাল নাগাদ তাপমাত্রা আরও ৫ থেকে ৭ ডিগ্রি বাড়বে। তাপমাত্রা ২ ডিগ্রির বেশি বাড়লেই পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর। এর ফলে ধান ৮ ভাগ এবং গমের উৎপাদন ৩২ ভাগ কমবে। উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষ জলবায়ু পরিবর্তনে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির শিকার হবে।

প্রতিবেদনে ২০৫০ সালের মধ্যে দেশের এক-তৃতীয়াংশ পানিতে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়। এর আগে আইপিসিসির ২০০৭ সালের প্রতিবেদনে ওই আশঙ্কা ছিল ২০৮০ সালে।

অন্যদিকে ২০১৬ সালে বিশ্বব্যাংকের তাপমাত্রা বৃদ্ধি ও জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব নিয়ে তৈরি করা এক প্রতিবেদনে বলা হয়, জলাবায়ু পরিবর্তনের ফলে কয়েক বছর পর পর বাংলাদেশের দুই-তৃতীয়াংশ বন্যায় ডুবে যাবে। এতে ফসলের ব্যাপক ক্ষতির পাশাপাশি দরিদ্র মানুষের ঘরবাড়ি ডুবে যাবে। সাম্প্রতিক সময়ে এর নজির মিলেছে।

গত কয়েক মাসে দেশের উত্তর ও মধ্যাঞ্চলসহ বিভিন্ন জেলায় কয়েক দফা বন্যায় ব্যাপক ফসলহানির ঘটনা ঘটে। ভেঙে গেছে মানুষের বাড়িঘর। এতে বহু মানুষ বাস্তুহারা হয়েছে।

জানা যায়, ১৯৯২ সালে প্রথম ধরিত্রী সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সেই সম্মেলনের মধ্য দিয়েই পরিবেশ বিপর্যয়ের বিষয়টি বিশ্ববাসীর দৃষ্টি আকৃষ্ট হয়। এরই ধারাবাহিকতায় পরে জাতিসংঘের উদ্যোগে গঠিত হয় ইন্টারন্যাশনাল প্যানেল অন ক্লাইমেট চেঞ্জ (আইপিসিসি)। বিশ্বের ৮৫০ বিজ্ঞানী এখানে কাজ করছেন।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে জলবায়ু পরিবর্তনের তথ্য নিয়ে প্রতিবেদন তৈরি করে সংস্থাটি।

এদিকে ক্লাইমেট এশিয়া ২০১৩-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশের শতকরা ৮৪ ভাগ মানুষ জানিয়েছে, জলবায়ু পরিবর্তন তাদের উপার্জন ক্ষমতার ওপর প্রভাব ফেলেছে। পেশা পরিবর্তনসহ জীবনযাত্রা এবং কৃষি কাজেও পরিবর্তন এনেছে তারা। ঢাকার মতো বড় শহরগুলো পরিবেশ বিপর্যয়ের কারণে শরণার্থী হয়ে আসা জনগোষ্ঠীকে সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে।

জলবায়ু পরিবর্তনজনিত আন্তঃরাষ্ট্রীয় প্যানেলের প্রতিবেদনে জানা যায়, বিশ্বে শিল্পায়নের আগে যেখানে বায়ুতে কার্বন ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ ছিল ২৮০ পিপিএম, সেখানে ২০০৫ সালে তা দাঁড়িয়েছে ৩৮০ পিপিএম। একবিংশ শতাব্দীতেও এ প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকায় সমুদ্র তীরবর্তী দেশগুলো এবং সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতার কাছাকাছি থাকা দ্বীপগুলো অচিরেই ডুবে যাওয়ার হুমকির মুখে।

সাম্প্রতিক তথ্যমতে, বাংলাদেশের উপকূলে প্রতিবছর ১৪ মিলিমিটার করে সমুদ্রের পানি বাড়ছে। গত ২০ বছরে সমুদ্রের উচ্চতা বেড়েছে ২৮ সেন্টিমিটার। সন্দ্বীপ, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও টেকনাফের সমুদ্র উপকূলের

পানি মেপে গবেষকরা বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছেন। তাদের ধারণা, ২০২০ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে পানির উচ্চতা আরও বেড়ে যাবে এবং বাংলাদেশ বড় ধরনের হুমকির মুখে পড়বে। অন্যদিকে বিশ্বে ২০৫০ সাল নাগাদ ৪৫ জনের মধ্যে ১ জন জলবায়ু উদ্বাস্তুতে পরিণত হবে।

ট্যাগ সমূহঃ
ডেস্ক প্রকাশক (উ/প্র) | Published On:July 27, 2017

❝আরো পড়ুন❞

➧নারীদের ঠোঁট দেখে চিনুন নারী কেমন চরিত্রের

➧জানুন যা করলে পুরুষের লিঙ্গ সহজে বড়, মজবুত ও মোটা করার যায়

➧নারীরা কোন ধরনের পর্নোগ্রাফি দেখতে পছন্দ করে?

➧শারীরিক সম্পর্কের আগে যেসব কাজ করা ঠিক নয়

➧সত্যি প্রেমটা করতে ইচ্ছুক ? জানিয়ে রাখি, প্রেমের ৭টি ধাপ

➧মিলনে নারীকে খুশি করার টিপস্ ! জেনে নিন…

❝এই বিভাগের আরো পোস্ট পড়ুন❞

  • ➧রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সংলাপ করেছে বিএনপির প্রতিনিধিদল

  • ➧সম্মেলন শেষে দেশে ফিরলেন প্রধানমন্ত্রী

  • ➧১৬৭ ধারা সংশোধনে হাইকোর্টের রায় বহাল রেখে আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায়

  • ➧প্রভাবশালী ১০০ নারীর মধ্যে ৩৬তম প্রধানমন্ত্রী

  • ➧খালেদার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি