Friday , 23 February 2018
Home জীবনযাপন প্রাপ্ত বয়স স্তন, যোনী লেহন/চোষন ও যোনীদেশে চুমু খাওয়া যাবে কি?

স্তন, যোনী লেহন/চোষন ও যোনীদেশে চুমু খাওয়া যাবে কি?

মুখমেহন/ওরাল সেক্স ইসলাম ধর্মে একটা বিতর্কিত বিষয়, কোন কোন বিদ্ব্যান এটাকে সমর্থন করেছেন আবার কেউ করেন নি, মোটামুটি ভাবে বলা যায় যে বিষয়কে কুরআনে ‘হারাম’ অথবা হাদিসে নিষিদ্ধ বলে চিহ্নিত করে হয়নি তা বৈধ। আর এই নীতিকে ভিত্তি করলে মুখ মেহন বা ওরাল সেক্স একটি গ্রহনযোগ্য পদ্ধতি, এবং তা যদি বৈধ স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রয়োগ হয় তবে এটা অন্যান্য যৌনপ্রনালীর মতই বৈধ। ইসলাম ধর্মে শুধু দূটো ব্যতিক্রমের কথা পরিস্কার উল্লেখ আছে। তা হলোঃ পায়ুপথে সঙ্গম নিষিদ্ব এবং স্ত্রীর মাসিক চলাকালীন সময়ে যৌনসঙ্গম নিষিদ্ব।

মুখমেহন ধারনাটি হুদাইবিয়া চুক্তির মতন একটা ঐতিহাসিক বিষয়ের সমসাময়িক, সহীহ বুখারী শরীফে এটি উল্লেখ আছে, এতে বোঝা যায় রাসুল (সা)-এর সাহাবীরা এই সমন্ধে ওয়াকিবহাল ছিলেন। হুদাইয়বিয়া চুক্তি চলাকালিন সময়ে আবু বকর ‘উরোয়া বিন মাসুর থাকাফি’ কে বলেছিলেন “লা’ত-এর ক্লিটোরিস চোষ” (তৎকালীন সময়ে লা’ত ছিল ইসলাম পূর্ব তাকিফ গোত্রের পূজিত একজন দেবী)। পাকিস্তানী একদলের মতে মুখমেহন অবৈধ নয় কিন্তু পছন্দনীয় ও নয়। আল তাবারি হতে উদ্ধৃতিঃ “Suck The Clitoris/Vagina Of Laat”

ডঃ কারাদাই, এক সুন্নী মতবাদে বিশ্বাসী বিদ্বান এক ফতোয়াতে ‘কিছু শর্তাধীন’ ভাবে মুখমেহনকে বৈধতা দেন। সিয়া ইমাম আল-খোয়েই বলেন, ” স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে মুখমেহন অবৈধ নয় (হারাম নয়)। সালাফী মতাবলম্বী বিদ্বানদের মতে “মুখমেহন সম্পূর্ন বৈধ কারন, আল্লাহর রাসুল স্ত্রীর সাথে পূর্বরাগ (ফোরপ্লে) উতসাহিত করেছেন, বলেছেন এতে করে দুজনের মধ্যে প্রেম ভালবাসা সমঝোতা বৃদ্ধি পায়”। ডঃ হেবা কোতব, মিশরীয় টেলিভিশনে যৌন বিষয়ক পরামর্শ দিয়ে থাকেন বলেন, “মুখমেহন বৈধ কারন, এটাকে অবৈধ ঘোষনা করে কোন দলিল নেই”। নিম্নে ওরাল সেক্স/মুখমেহনের কয়েকটি দিক তুলে ধরা হলোঃ

১. স্ত্রীর স্তন ও যোনী লেহন/চোষনঃ ইসলামে এর বিরোধী কিছু বলা হয়নি, সুতরাং এটা স্বামী ও স্ত্রীর ব্যাক্তিগত পছন্দ অপছন্দের উপর নির্ভর করছে যে, ওরা এটা করবে কি না। স্বামী তার স্ত্রীর স্তন দলাই মলাই করতে পারেন, তার স্তনবৃন্ত (নিপল) ও স্তন চুষতে পারেন। মালিকি মতাবলম্বীরা যোনী লেহন অনুমোদন করেন। কারন এটা হারাম নয় আর ‘মাকরুহ’ ও নয়। ইমাম মালিকি বলেছেন ‘জিভ দিয়ে যোনী লেহন হারাম নয়’ বলা হয় যখন কেঊ প্রশ্ন করেছিলেন, ‘স্ত্রীর যোনীদেশে চুমু খাওয়া যাবে কি’? তখন তিনি বলেছিলেন, ‘কোন সমস্য নেই’।

২. পুরুষাঙ্গ ছোয়া বিষয়েঃ ‘যদি ছোয়া যায় তাহলে পরিস্কার থাকলে চুমুও খাওয়া যায়’। এই বিষয়ে ইমাম আল মুয়াত্তা ইমাম মুহাম্মাদ বলেন, ‘ইসলাম ধর্মে কেউ কেউ এই বিষয়ে তর্ক করেছেন যে, যৌনাঙ্গকে নাপাক বলা যাবে না কারন এটা শরীরেই অন্যান্য অঙ্গের মত একটা অঙ্গ, এটা স্পর্শ করলে অযু ভঙ্গ হয় না’।

যখন এক সাহাবী তাকে প্রশ্ন করেছিলেন ‘পুরুষাঙ্গ স্পর্শ করলে অযু করতে হবে কি? হযরত বলেন ‘না এটা শরীরেরই একটা অংশ”। হানাফী মতানুসারী্রা দাবী করেন ‘লিঙ্গ স্পর্শ করা লজ্জাজনক কিছু নয়” সহিহ হাদিস। আল মুয়াত্তা ইমাম মুহাম্মাদ যুক্তি দেখান “এটা নাপাক নয়” আর এই বিষয়ে জোর দেন যে, যদি নাপাক হয় তবে তাকে শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলে দিতে হবে’। এটা দাবী করে যে, লিঙ্গ শরীরের অন্যান্য অঙ্গের মত একটা অঙ্গ।

মোহাম্মাদ বিন আল হাসান আল সাইবানী’র মতে, বিদ্বানরা হযরত আবু হানিফার মতবাদকে উল্ল্যেখ করেছেন, হামাদ বিন ইব্রাহিম ও হযরত আলি বিন আবু তালেব’র উদ্ধৃতি দিয়েছেন, “এটাতে কোন ক্ষতি নাই, আমি স্পর্শ করি, না হয় এটা আমার নাকের উপর’ (এটা একটা রূপক কথা, তিনি যে মিথ্যা বলেন নি এটাকে জোর দেবার জন্যা এই কথার অবতারনা) আবু হানিফা বলেন, হামদ বিন ইব্রাহিমের উদ্ধৃতিতে ইবন মাসুদ জিজ্ঞেস করেছিলেন। ‘লিঙ্গ স্পর্শ করার ফলে ওযু করতে হবে কি’? তিনি জবাব দিলেন ‘যদি নাজায়েয হয় তবে কেটে ফেল’ তার মানে কোন ক্ষতি নেই।

আবু হানিফা আরো বলেন এবার হামাদ বিন ইব্রাহিম ও সাদ আবু ওয়াক্কাস’র উদ্ধৃতি ‘দেখলাম এক ব্যাক্তি তার লিঙ্গ ধৌত করছে, বললাম ‘তুমি কি করছ? এটার দরকার নেই’। তবে ইমাম হানিফা প্রশ্রাব করার পর লিঙ্গ ধৌত করার ব্যাপারে জোর দিয়েছেন। তালক বিন আলি (বিন আল মুন্ধির বিন কায়েস) একবার হযরতের উদ্ধৃতিতে বন, একবার আমরা হযরতের সামনে ছিলাম এক বেদুইন এসে তাকে প্রশ্ন করলেন ‘ও হযরত যদি কোন মানুষ তার নিজ লিঙ্গ স্পর্শ করে তাতে কি ওযু করতে হবে?’ হযরত উত্তর দিলেন ‘এটাতো শরীরেরই একটা অংশ’।

৩. মুখমেহন ও খৎনাঃ যদি লিঙ্গ পরিস্কার পরিচ্ছন্ন না থাকে তাহলে শারীরিক অসুবিধাও হতে পারে, ডাক্তারি কোন সমস্য দেখা দিতে পারে, খৎনাকৃত লিঙ্গকে স্বাস্থ্যসম্মত গন্য করা হয়। মুখমেহনের বেলায় স্ত্রীরাও এটাকে পছন্দ করে। যৌনকেশ মুন্ডন/সেভ/কর্তন করা ইসলাম ধর্মে তাগিদ করা হয়েছে।

৪. মুখমেহন ও পূর্বরাগ (ফোরপ্লে): ‘মুখমেহন কোন যৌন বিকৃতির কারন যেন না হয়’ বলা হয়েছে এবং স্ত্রীদের অনুমোদন সাপেক্ষেই আর দুজনের চরম পুলকের কথা মনে রেখে করতে উপদেশ দেয়া হয়েছে। ডঃ হেবা কোতব জোর দিয়ে বলেন, “স্ত্রীদেরও যৌনক্রীড়া উপভোগ করা উচিত, মুখমেহন একটি ফোরপ্লে, আর ইসলাম ফোরপ্লেকে জোর দিয়েছে’। হাম্বালী মতাবলম্বীদের কিতাবে আছে, “স্বামীরা তাদের স্ত্রীদের স্তন মাঝে, অথবা তাদের থাই (পায়ের) মধ্যে নিজ লিঙ্গ ঘষে বীর্যস্খলন করতে পারবে, এটা বৈধ’।

ট্যাগ সমূহঃ
ডেস্ক প্রকাশক (উ/প্র) | Published On:June 24, 2017

❝আরো পড়ুন❞

➧কনডম ব্যবহার করার সময় এই ভুলগুলি এড়িয়ে চলুন

➧সকল ধর্মেই নারীর কুমারীত্ব গুরুত্বপূর্ণ কেন?

➧শারীরিক মিলনে যে কাজ করলে রেগে যেতে পারেন স্ত্রী

➧অনেক পুরুষ-ই জানেন না যে, কাকে বলে ফোরপ্লে!

➧বিদেশে সুন্দরী নারিরাও নিয়মিত শেভ করছেন কিন্তু কেন দেখুন ভিডিওতে

➧পুরুষরা মহিলাদের স্তনের দিকে চেয়ে থাকে কেন?

❝এই বিভাগের আরো পোস্ট পড়ুন❞

  • ➧দাম্পত্য সম্পর্কের ৫০ টি বিষয় যা আপনার জেনে রাখা প্রয়োজন

  • ➧জানুন বিয়ের পর কেন ছিপছিপে মেয়েদেরও কোমড় ,স্তন চওড়া এবং মোটা হয়ে যায়

  • ➧যে কারণে নিজেদের যৌনজীবন নষ্ট করেন নারীরা

  • ➧১২টি ইশারায় বুঝে নিন নারীর শারীরিক সম্পর্ক চায়

  • ➧স্বামী বিদেশে থাকলে স্ত্রীর করণীয় কি?