Friday , 23 February 2018
Home অর্থ-বাণিজ্য ও কৃষি বাম্পার ফলনেও হাসি নেই মরিচ চাষিদের

বাম্পার ফলনেও হাসি নেই মরিচ চাষিদের

বাম্পার ফলনেও হাসি নেই মানিকগঞ্জের মরিচ চাষিদের মুখে। নায্য দাম না পাওয়ায় লোকসান গুনতে হচ্ছে তাদের। হাড়ভাঙ্গা পরিশ্রম আর পুঁজি খাটানোর পর উৎপাদন খরচ উঠানোই দায় হয়ে উঠেছে তাদের।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, মানিকগঞ্জের সাতটি উপজেলাতেই কমবেশি মরিচের আবাদ হয়। তবে ঘিওর, শিবালয় ও হরিরামপুর উপজেলাতে জেলার সিংহভাগ মরিচের চাষ হয়ে থাকে। চলতি মৌসুমে প্রায় ৬ হাজার হেক্টর জমিতে মরিচের আবাদ হয়েছে।

শিবালয় উপজেলার মুনাইল গ্রামের কৃষক মো. সিরাজুল ইসলাম এ বছর দুই বিঘা জমিতে মরিচের আবাদ করেছেন। জমি তৈরি, সেচ, সার, বীজ, কীটনাশক, কৃষি শ্রমিক সব মিলিয়ে তার বিঘাপ্রতি মরিচ চাষে খরচ হয়েছে ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা। ফলন ভালো হলে প্রতি বিঘায় ৭০ থেকে ১০০ মণ মরিচ উৎপাদন হয়। তবে, এ বছর ফলন ভালো হলেও বাজারে মরিচের দাম না থাকায় তার উৎপাদন খরচ উঠানোই দায় হয়ে পড়েছে।

তিনি জানান, মৌসুমের শুরু থেকেই বাজারে প্রচুর মরিচের আমদানি হওয়ায় দাম একেবারেই কম যাচ্ছে। বর্তমানে প্রতি কেজি মরিচ বিক্রি হচ্ছে ৫ থেকে ৮ টাকা দরে। এক কেজি মরিচ তুলতে শ্রমিকদের দিতে হয় ৫ টাকা। পরিবহনে প্রতি কেজিতে খরচ হয় ১ টাকা থেকে ২ টাকা।

পার্শবর্তী তাড়াইল গ্রামের কৃষক নজরুল ইসলাম জানান, গত বছর তিনি ১ বিঘা জমিতে মরিচের আবাদ করেছিলেন। অধিক লাভের আশায় তিনি এ বছর ৪ বিঘা জমিতে মরিচ চাষ করেছেন। তবে, এবারে মরিচের দাম না থাকায় তিনি বড় ধরনের লোকসানে পড়বেন।

ঘিওরের পাঁচুরিয়া গ্রামের মরিচ চাষী আব্দুল বাতেন জানান, মানিকগঞ্জের এই মরিচ গত দুই বছর আগেও মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কয়েকটি দেশে রপ্তানি করা গেছে। বর্তমানে ওইসব স্থানে রপ্তানি বন্ধ থাকায় তারা মরিচের দাম পাচ্ছেন না।

তিনি বলেন, ‘জেলায় সরকারি ও বেসরকারিভাবে কোনো হিমাগার না থাকায় আমাদের আরো সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। হিমাগারে মরিচ সংরক্ষণ করা গেলে সারা বছর ভরে মরিচ বিক্রি করা যেত, তাহলে কৃষকেরা আর্থিকভাবে লাভবান হতো।’

শিবালয় উপজেলা ঐহিত্যবাহী বরঙ্গাইল হাটের আড়ৎদার শাহিন মেম্বার জানান, এই হাটে প্রতিদিন ১০০ থেকে ১৫০ টন মরিচের আমদানি হয়। পরে এসব মরিচ ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন বাজারে সরবরাহ করা হয়। তবে, এ বছর দাম না থাকায় কৃষকদের লোকসান গুনতে হচ্ছে।

এ ব্যাপারে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. আলীমুজ্জামান মিয়া রাইজিংবিডিকে জানান, এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় মরিচের ব্যাপক ফলন হয়েছে। মৌসুম শুরুর আগেই অধিক ফলন হওয়ার কারণে কৃষকেরা দাম পাচ্ছেন না। তা ছাড়া দালাল-ফড়িয়া চক্রের কারণেই দুই বছর ধরে স্থানীয় মরিচ বিদেশে পাঠানো যাচ্ছে না। যে কারণে কৃষকেরা ন্যায্য দাম পাচ্ছেন না।

ট্যাগ সমূহঃ
ডেস্ক প্রকাশক (উ/প্র) | Published On:May 5, 2017

❝আরো পড়ুন❞

➧পুরুষের বীর্যে শুক্রাণু নেই,জানুন কিভাবে চিকিৎসা করালে বাবা হতে পারবেন

➧যে কারণে নিজেদের যৌনজীবন নষ্ট করেন নারীরা

➧শারীরিক সম্পর্কের পর যে কথা শুনলে পুরুষ রেগে যায়

➧পুরুষের যৌন ভয় দূর করতে মহিলারা কি করতে পারেন?

➧জানুন বর্তমানে তরুণদের মাঝে দিন দিন যৌন অক্ষমতা ও যৌন বিকৃতি বাড়ছে কেন

➧আপনি কি এখন মা হওয়ার কথা ভাবছেন?

❝এই বিভাগের আরো পোস্ট পড়ুন❞

  • ➧বেনাপোল-পেট্রাপোল বন্দরঃ আমদানি-রফতানি বন্ধ

  • ➧পাঁচ দিনে ২০ শতাংশ বেড়েছে ইসলামী ব্যাংকের শেয়ারের দাম

  • ➧সীমান্ত ব্যাংকের এমডি হলেন মুখলেসুর রহমান

  • ➧পাইকারি বাজারে পেঁয়াজ – আলুর দাম কমেছে

  • ➧মোবাইল ব্যাংকিংয়ের চার্জ কমানোর ইঙ্গিত